Breaking News :

:

নোয়াখালী সরকারি কলেজ: 'নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন হরেক খাতে মিলছে না সেবা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

top-news

নোয়াখালী সরকারি কলেজে ভর্তি ও সেশন ফির নামে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা নেওয়া হলেও মিলছে না ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী সরকারি কলেজে অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অবাস্তব, অস্তিত্বহীন ও 'নামসর্বস্ব' খাতে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে। সেবা বা কার্যক্রমের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকলেও প্রতি বর্ষে বাধ্যতামূলকভাবে এসব ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। 
রসিদে আছে, বাস্তবে নেই
কলেজের ভর্তি ও সেশন ফির বিবরণী বিশ্লেষণ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর অনার্স ও ডিগ্রি (পাস) কোর্সে ভর্তি এবং বর্ষ পরিবর্তনের সময় একগুচ্ছ খাতের অধীনে টাকা নেওয়া হয়। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছ-
স্বাস্থ্যসেবা ফি: টাকা নেওয়া হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা বা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেই। নামমাত্র একটা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকলেও সেটা তালাবদ্ধ কয়েক মাস, নেই কোন ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ফি: ক্রীড়া খাতের টাকা নিয়মিত কাটা হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ক্রীড়াসামগ্রী বা নিয়মিত অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্টের আয়োজন চোখে পড়ে না।
শিক্ষা সফর ফি:  বিভাগীয় উদ্যোগ ছাড়া কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় অংশেরই কোনো শিক্ষাসফরের অভিজ্ঞতা হয় না, অথচ এই ফি সবার জন্যই বাধ্যতামূলক। অনেক বিভাগে এক যুগেও হয়নি শিক্ষা সফর। আবার যেসব বিভাগে শিক্ষা সফর হয় সেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফর খাত থেকে কোন ফান্ড পায়না বলে অভিযোগ রয়েছে। 
বিজ্ঞান ক্লাব ফি: বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত বিজ্ঞান ক্লাব বাবদ ফি আদায় করা হলেও বিজ্ঞান ক্লাবের নূন্যতম কোন কমিটি বা কার্যক্রম নেই।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিতর্ক ফি: সাহিত্য-সাংস্কৃতি, বিতর্ক  কর্মকাণ্ডের নামে তহবিল গঠন করা হলেও বছরজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোনো বড় আয়োজন দেখা যায়না। কলেজে সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পর্কিত ক্লাব বা বিতর্ক ক্লাব ক্লাবের সক্রিয়তা দেখা যায় না।
উন্নয়ন তহবিল: সরকারি এই কলেজটিতে উন্নয়ন তহবিলের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ কাটা হলেও অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা এখনো বিদ্যমান। বছরজুড়ে শিক্ষার্থীদের কল্যানে অবকাঠামো বা সার্বিক তেমন কোন উন্নয়ন চোখে পড়ে না। 
রেড ক্রিসেন্ট ফি: রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ নিয়মিত ফি আদায় হলেও কয়েক বছর ধরে কলেজে রেডক্রিসেন্টের কার্যক্রম তো দুরের কথা কোন অস্তিত্বও নেই। 
কমনরুম ফি: শিক্ষার্থীদের বিশ্রাম, আড্ডা ও অবসর সময় কাটানোর জন্য কমনরুম ফি বাবদ টাকা আদায় করা হলেও কমনরুমের কোন সেবা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা প্রতি বছর ফরম ফিলাপ ও সেশনের সময় রসিদ দেখে টাকা দিই। কিন্তু রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ক্লাব বা সাহিত্য পরিষদের কাজ কী, তা আমরা সাধারণ ছাত্ররা জানিই না। সেবা না দিয়ে কেন এই টাকা নেওয়া হবে?" 
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি কলেজে পড়াশোনার খরচ কম হওয়ার কথা থাকলেও ভর্তি ও ফরম ফিলাপের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধার্য্যকৃত ফি এর বাইরে নানামুখী অদৃশ্য চার্জ যুক্ত করে মোট টাকার পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। 
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারি কলেজগুলোতে তদারকির অভাবে এই খাতগুলো শুধুমাত্র 'টাকা তোলার হাতিয়ারে' পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য যে টাকা নেওয়া হয়, তা যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অবিলম্বে এই অবাস্তব খাতগুলোর ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা বা পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search

Category

Advertisement

Gallery

Tags

Social Media