Breaking News :

:

পরীক্ষার হলে হয়রানি ও কক্ষ পর্যবেক্ষক শিক্ষকদের অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের

top-news

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের চলমান ফাইনাল  পরীক্ষায় নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে হয়রানি ও কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। 

নিয়ম অনুযায়ী চৌমুহনী এস এ কলেজের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র পড়ে নোসকে। গতকাল অনার্স পরীক্ষার ১ম দিনে কলেজের বিজ্ঞান ভবন-২ এর ২৩০২ নং কক্ষে হয়রানি ও অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন এক শিক্ষার্থী। পরে ওই পোস্টের কমেন্টে এবং বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারাও প্রায় সময় নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, সোনাপুর সরকারি কলেজ, চৌমুহনী এস এ কলেজে পরীক্ষা দিতে এ ধরনের হয়রানি ও অগ্রহণযোগ্য ও অসহযোগিতামূলক আচরণের স্বীকার হন। তারা অভিযোগ করেন, দূরদূরান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে যেতে হয় অথচ বেশিরভাগ কেন্দ্রে ব্যাগ ও মোবাইল রাখার কোন স্থান নেই, পানি খাওয়ার ব্যবস্থা নাই, বাথরুম গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী, ইলেক্ট্রিসিটির সমস্যা, ভাঙাচোরা টেবিল বেঞ্চ, যখন তখন ছাদ বা দেওয়াল থেকে খসে পড়ে পলেস্তারা। এছাড়াও অনেক সময় দেরিতে উত্তরপত্র সরবরাহ করা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন অনেক শিক্ষক।


নিজের ফেসবুক পোস্টে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়,  আসসালামু আলাইকুম আমি চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহামেদ কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী। গত কালকে ২৮-০৭-২০২৬ আমাদের অনার্স প্রথম বর্ষের বাংলাদেশের ইতিহাস: ভাষা,সংস্কৃতি ও পরিচয় পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। আমাদের কেন্দ্র পড়েছে নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান ভবন ২- ২৩০২ - ৩য় তালা। এটা আমাদের জীবনের প্রথম অনার্সের পরীক্ষা। হ্যাঁ, আমরা সবকিছুই বাড়ি থেকে দেখে গিয়েছি কিভাবে সব পূরণ করতে হবে। তবুও যেহেতু এটা আমাদের জীবনের প্রথম অনার্স পরীক্ষা সবাই একটু নার্ভাস ছিল। এর মধ্যে কি হয়েছে; আমাদের যে হল গার্ডের একজন স্যার একজন ম্যাম পড়েছে উনারা আমাদেরকে খাতা দিয়েছে ১:৩০ মিনিটে এবং খাতা দেওয়া শেষ হওয়ার পর পরই আমাদেরকে প্রশ্ন দিয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের কথা হচ্ছে অনার্সের খাতা সবাই জানে মোটামুটি কি রকম মোটা হয় এটাতে মার্জিন করা, এটার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, রোল নাম্বার, বৃত্ত ভরাট করার সময় সবাই একটু নার্ভাস থাকে। আমাদের ম্যাম আমাদেরকে কিছুই বলে দেয়নি যে এভাবে এভাবে পূরণ করতে হবে; এখানে এটা লিখতে হবে। আমার একজন সহপাঠী একটা কোড লিখতে ভুলে গিয়েছে তাই বলে ওই ম্যাম তার খাতায় স্বাক্ষর করেনি এবং তাকে তার ভুলটাও ধরায় দেয়নি। এবং আমি নিজে যখন এক্সট্রা পেপারের জন্য দাড়াই ম্যাম আমাকে বলেছে সামনে যেতে আমি গেলাম গিয়ে ৫ মিনিটের মত দাঁড়ায় থাকলাম। পেপারগুলোতে ম্যাম আগে সিগনেচারও করে রাখে নাই, পরে আমাকে দিয়েই এক্সট্রা  পেপারগুলো নিজের কাছে আনিয়ে সাইন করে সেখানে আমার ৫ মিনিট নষ্ট করেছে ম্যাম। মূল খাতার পিছনে একটা সাইন করেছে এবং এক্সট্রা পেপার এ। আমাকে ম্যাডাম এটাও বলে দেয় নাই এক্সট্রা পেপার এ যে একটা কোড থাকে সেটি মুল খাতার পিছনে লিখতে হবে। আমি ২ টা এক্সট্রা পেপার নিয়েছি মেম ২য় এক্সট্রা পেপার নেওয়ার সময়ও আমার মুল খাতা দেখেছে তখনও আমাকে বলেনি আমি মুল খাতায় কোডটি লিখিনি কেন। আমার কথা হচ্ছে হল গার্ডদের কি এটা কর্তব্য না ছাত্র-ছাত্রীদের এটা বুঝিয়ে দেওয়া? ম্যাম ক্লাস এ আরেকজন স্যার আশার পর ওনাকে বলছে অনার্সের হল গার্ড দিতে ওনার ভালো লাগে না অনার্সের গুলো শৃঙ্খল না.! এখন আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে ম্যামকে কি তাহলে জোর পূর্বক হলগার্ড দিতে কেউ বাদ্দ করেছিলো যার কারণে উনি আমাদেরকে কিছু বুঝিয়ে বা বলে দেয়নি? আমার কয়েকজন সহপাঠী স্যারকে বলেছে কোড এটা লাগবে কিনা স্যার বলেছে লাগবে না 

এখন আমাদের নাম্বার কম আসলে বা এক্সট্রা পেপার হারিয়ে গেলে এটার দায়ভার কে নিবে?।


এবিষয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজ অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মুহাম্মদ শাহিদুর রহমান বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ওই ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ করে দুঃখপ্রকাশ করেছি। এবং তাকে আশ্বস্ত করেছি ভবিষ্যতে আর এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হবেনা। এছাড়াও বিষয়টি অধ্যক্ষ মহোদয়কে জানিয়েছি এবং আমার সকল সহকর্মীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যাতে আগামী দিন গুলোতে উনারা আরো আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্বপালন করেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search

Category

Advertisement

Gallery

Tags

Social Media