:

বিএনসিসির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে নোসক অধ্যক্ষের অংশগ্রহণ ঘিরে এত প্রশ্ন কেনো?

top-news

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা বাংলাদেশ ন্যাশানাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ ও গনিত বিভাগের শিক্ষক এবং নোসক বিএনসিসির প্লাটুন কমান্ডার ও পিইউও মোঃ সোলায়মান। উক্ত কর্মসূচিতে অধ্যক্ষ ও কলেজ প্রশাসনের পাশাপাশি সামনের সারিতে অংশ নিতে নিতে দেখা যায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। বিশেষ করে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম রিয়াজ ও সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এতে অংশ নেন। 

এর পরে কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এ সংক্রান্ত এক পোস্টে বলা হয় "নোয়াখালী সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের উদ্যোগে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০২৬ বৃক্ষ রোপণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান এর উদ্বোধন করেন  অধ্যক্ষ মহোদয় প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলাম ও উপাধ্যক্ষ  প্রফেসর এবিএম ছানা উল্যা। প্লাটুন কমান্ডার গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ সোলাইমান। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ, সহ-সভাপতি মোঃ বিশাল ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্লাটুনের সিনিয়র ও জুনিয়র ক্যাডেটবৃন্দ।" (যদিও সমালোচনার পর পোস্টটি সংশোধন করা হয়) উক্ত পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। প্রশ্ন উঠে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি অরাজনৈতিক ও স্বতন্ত্র সংগঠনের অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতারা কিভাবে উপস্থিত হয়েছেন এবং কলেজের অধ্যক্ষ কিভাবে ছাত্রনেতাদের নিয়ে এমন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন? প্রশ্ন উঠে অধ্যক্ষের নিরপেক্ষতা নিয়েও। 

নোসক বিএনসিসির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ক্যাডেট জানান, আমরা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আয়োজন করি এবং অধ্যক্ষ মহোদয়কে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। আমাদের কোন প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানোর রেওয়াজ নেই। আমরা সবসময় সেটা পালন করে থাকি। গতকালকের বৃক্ষরোপণ অভিযানেও কলেজের কোনো ছাত্রসংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কর্মসূচি শুরু হলে আমরা দেখতে পায় অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে অংশগ্রহণ করেছেন। এমুহুর্তে এখানে তো আসলে আমাদের কিছু করার ছিলো না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ বিএনসিসির এক এক্স ক্যাডেট সার্জেন্ট বলেন, "বিএনসিসি'র উদ্যোগ নাকি ছাত্রদলের উদ্যোগ, নাকি দু'পক্ষের যৌথ উদ্যোগ এটি? সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রোগ্রাম এখন রাজনৈতিক। এটা প্রত্যাশিত ছিলো না। ক্যাডেটদের প্রোগ্রামে ক্যাডেটদের স্বতন্ত্রতা-ই নেই। ইভেন ক্যাডেটদের নাম সবার শেষে। এটা ক্যাডেটদের অপমান করার সমতুল্য।"

নোসক শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, "নোসক ছাত্রদল কি ক্যাম্পাসের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত কোনো ছাত্রপ্রতিনিধি নাকি? তাদের প্রতি নোসক ক্যাম্পাস প্রশাসনের এই রকম আলাদা take  care কে নোসকের শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নিচ্ছে না। একই সাথে অধ্যক্ষ স্যারের নিরপেক্ষ আচরণ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মনে প্রন্স আসতেছে।"

নোসক ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল কাদের আল আমিন বলেন, "ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের মধ্যে বিএনসিসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বতন্ত্র সংগঠন। এসব সংগঠনের কার্যক্রম হওয়া উচিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, নিরপেক্ষ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
কিন্তু নোয়াখালী সরকারি কলেজ বিএনসিসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, স্বয়ং অধ্যক্ষ মহোদয়ের উপস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতাকর্মীদের এমন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি হওয়া প্রশ্নের জন্ম দেয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো কলেজ প্রশাসনের অফিসিয়াল পেজেও সেই কর্মসূচির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, কলেজের কো-কারিকুলার কার্যক্রমগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত থাকা জরুরি। অতীতেও একটি ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে কলেজের বিভিন্ন কো-কারিকুলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছিল এমন অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।
তাই আমরা আশঙ্কা করছি, ভবিষ্যতে যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান বিএনসিসি, বিভিন্ন ক্লাব ও স্বতন্ত্র সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য, নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করুন। শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব নয়,যোগ্যতা, শৃঙ্খলার সাথে কার্যক্রমের বিকাশই হোক অগ্রাধিকার।"

এবিষয়ে জানার জন্য কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং  বিএনসিসি প্লাটুন কমান্ডার ও পিইউও মোঃ সোলায়মান-এর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search

Category

Advertisement

Gallery

Tags

Social Media